ডার্ক ওয়েব কি? কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত আলোচনা

 

আসসালামুআলাইকুম সবাইকে। বন্ধুরা আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করি তারা অনেকেই একটা শব্দ শুনে থাকবেন যেটা হচ্ছে "ডার্ক ওয়েব"। আমাদের অনেকেরই ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারনা আছে আবার অনেকেই ডার্ক ওয়েব বা অন্ধকার জগত সম্পর্কে জানেন না কিছু। তো বন্ধুরা আজকের বঙ্গ টিপসের এই আর্টিকেলের আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করব যে ডার্ক ওয়েব বা ইন্টারনেটের এই অন্ধকার জগতটা কি, ডার্ক ওয়েবের জগতে কি আছে কিভাবে আপনারাও চাইলে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারেন। এই সম্পূর্ণ বিষয়গুলো জানতে চাইলে আজকের আর্টিকেলটা সম্পুর্ন পড়তে থাকুন। 


তো বন্ধুরা ডার্ক ওয়েবে যাওয়ার আগে আমাদেরকে বুঝতে এবং জানতে হবে ওয়েব জিনিসটা কি সেটা নিয়ে। তো বন্ধুরা ওয়েব শব্দের বাংলা অর্থ বলতে গেলে বলা যায় ওয়েব মানে হচ্ছে ইন্টারনেটের জগত। আর ওয়েব এর প্রকারভেদ এর কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায়, ওয়েব মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
1. সার্ফেস ওয়েব
2. ডিপ ওয়েব
3. ডার্ক ওয়েব
সার্ফেস ওয়েব: তো বন্ধুরা আমরা সাধারন মানুষেরা যেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি বার সারা বিশ্বের মানুষ যে ইন্টারনেট টা দেখতে পাচ্ছে বা যে ইন্টারনেট পাবলিক করা রয়েছে সেটি হচ্ছে সার্ফেস ওয়েব। আমরা যে ইউটিউব চালাচ্ছি, গুগল ব্যবহার করছি, ফেসবুকে ভিডিও দেখছি এগুলো সারফেস ওয়েব এর আন্ডারে পড়ে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে যে জিনিস গুলো সবাই অ্যাক্সেস করতে পারে দেখতে পারে, পাবলিক করা রয়েছে সেই ইন্টারনেটে হচ্ছে সার্ফেস ওয়েব।

ডিপ ওয়েব: এখন আমরা কথা বলবো পরবর্তী ইন্টারনেট এর ধরন ডিপ ওয়েব সম্পর্কে। ডিপ ওয়েব টা আসলে সাধারণ মানুষের জন্য না আবার সাধারণ মানুষের জন্যেই। ডিপ ওয়েব টা আসলে কি আপনাদের কে বলি। ধরুন আমি একটা নতুন ভিডিও আপলোড দিবো ইউটিউবে। তো আমি আপলোড করার পর এই ভিডিওটা কিন্তু একটা নির্দিষ্ট জায়গায় চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের চোখে এটা বুঝা যাবে না। ধরুন আপনি ফেসবুক একটা নতুন ফটো আপলোড করলেন, আপলোড করার পর সেই ছবিটি কিন্তু কোন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় স্টোর হচ্ছে। আমরা সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে সেটা ধরতে পারতেছিনা। ধরেন আমরা অনেকেই বিভিন্ন ছবি ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ অনেক ডকুমেন্টস গুগোল ড্রাইভ এর মত ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষিত করে রাখি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে আসলে কি জিনিসটা কি এবং কিভাবে কাজ করতেছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই ডিপ ওয়েব প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করি।

ডার্ক ওয়েব: তো বন্ধুরা এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সার্ফেস ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা জানবো ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে। ডার্ক ওয়েবের বাংলা অর্থ করলে এর অর্থ আসে ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত। এই ডার্কওয়েবে সাধারণ মানুষ সাধারণ ইউজার হিসেবে কখনোই ঢুকতে পারবে না। আমরা যদি সারাজীবন গুগল এর মতো বিভিন্ন সারফেস ওয়েবে এ গিয়ে সার্চ দেই যে কিভাবে ডার্ক ওয়েবে ঢুকবো ডার্কওয়েবে নিয়ে যান এগুলো ছাড়া যে কোনো কাজ হবে না। সাধারণ ব্রাউজার বা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে আমরা কখনই ঢুকতে পারবো না ডার্কওয়েবে। চলুন জানি ডার্কওয়েবের মধ্যেই কি হয়ে থাকে সেটি সম্পর্কে। এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, পৃথিবীর যত খারাপ কাজ রয়েছে সবগুলোই ডার্কওয়েবে হয়ে থাকে। হ্যাকিং থেকে শুরু করে‌ মানুষকে হত্যা করা, চুরি করা, ডাকাতি করা, কাউকে কিডন্যাপ করা, অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা এই ধরনের সকল ধরনের খারাপ কাজ হয়ে থাকে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে। ডার্ক ওয়েবে যারা থাকে তারা প্রত্যেকে নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রেখে ব্যবহার করে। আপনারা চাইলেও কিন্তু যে কোনো ধরনের সাধারণ ব্রাউজার ব্যবহার করে আপনারা ডার্ক ওয়েবে ঢুকতে পারবেন না। ডার্ক ওয়েবে ঢোকার জন্য আপনার আলাদা ব্রাউজার এর প্রয়োজন হবে, আলাদা ভিপিএন এর প্রয়োজন হবে এবং ইন্টারনেটে কিছু সংখ্যক ওয়েবসাইট আছে যেগুলো আপনাকে ডার্ক ওয়েবে নিয়ে যেতে পারে। 
তো বন্ধুরা ডার্ক ওয়েবে কিভাবে ঢুকব যায় এটি এখন আপনাদের বলি। 
ডার্ক ওয়েবে ঢুকার সবচেয়ে বহুল প্রচলিত নিয়ম টি আজকে আপনার সাথে শেয়ার করব। ডার্ক ওয়েবে ঢুকার জন্য আপনার একটি ব্রাউজার প্রয়োজন হবে যেটির নাম হচ্ছে "টর ব্রাউজার"। টর ব্রাউজার টি আপনারা গুগল প্লে স্টোরে পেয়ে যাবে। তোর শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে পেঁয়াজ যেটি আপনারা এই ব্রাউজারটির লোগো থেকেই বুঝতে পারবেন। ডার্ক ওয়েব হচ্ছে পেঁয়াজের মতো। আপনারা খেয়াল করলে দেখতে পাবেন পিয়াজের কিন্তু অনেকগুলো স্তর থাকে,‌ যদি আমরা ছিলি তাহলে স্তর গুলো পেজ থেকে উঠে উঠে শেষ মুহূর্তে গিয়ে আমরা ছোট্ট একটা অংশ পাই। তো তোর ব্রাউজার টা ও ঠিক একই কাজ করে থাকে। সাধারণ ইন্টারনেটের সব বাধা পেরিয়ে সে আপনাকে ডার্ক ওয়েব অর্থাৎ ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সো জারা dark.web ব্যবহার করে তারা টর ব্রাউজার এর মাধ্যমে ব্যবহার করে থাকে। 
বন্ধুরা আমাদের মধ্যে অনেকেই আবার ডার্ক ওয়েবে যেতে চাই। আপনার কাছে যদি একটি সাধারণ এন্ড্রয়েড ফোন থাকে তাহলে আপনি ডার্ক ওয়েবে ব্রাউজ করতে পারবেন। এন্ড্রয়েড ফোন দিয়ে ডার্ক ওয়েবে ঢোকার জন্য আপনার দুইটি সফটওয়্যার লাগবে।
একটি হচ্ছে টর ব্রাউজার আরেকটি হচ্ছে অরবিট নামক একটি ভিপিএন এর। সফটওয়্যার থাকলেই আপনি ডার্ক ওয়েব ব্রাউজ করতে পারেন। তবে আপনার কাছে অনুগ্রহপূর্বক রিকোয়েস্ট থাকবে যে প্লিজ কেউ ডার্ক ওয়েবে ঢুকবেন না। ডার্ক ওয়েব অত্যন্ত খারাপ একটা জিনিস। সেখানে গেলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। যদি আপনি ডার্ক ওয়েবে ঢুকতে ঢুকতে পারেন তবে আমাদের বঙ্গ টিপস এর কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না। 

আপনি যদি আপনার আসল পরিচয় দিয়ে ডার্ক ওয়েবে ঢুকে থাকেন তাহলে পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুব সহজেই আপনাকে ধরে ফেলবে কারন এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সাধারণ মানুষের জন্য। 
আপনাদের প্রতি রিকোয়েস্ট থাকবে যে সব সময় চেষ্টা করবেন এই ডার্ক ওয়েব থেকে দূরে থাকার। কারণ ছাড়া ডার্কওয়েবে কাজকর্ম করে বেড়ায় তাদের পরিণতি খুবই বাজে হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন আজকের আমাদের আর্টিকেলটি।

শেষ কথা
আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের বঙ্গ টিপস এর নতুন আর্টিকেল ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে পড়ার জন্য। করছি আপনি অনেক জ্ঞান লাভ করেছেন ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদেরকে জানিয়ে দিতে পারেন ফেসবুকে শেয়ার করার মাধ্যমে। আরো কিছু যদি বলার কিছু থাকে তাহলে আমাদের ফেসবুক পেজ এ যোগাযোগ করতে পারেন ‌ সেখানে কিছু এডমিন এবং মডারেটর রয়েছে যারা আপনাকে তথ্য দিতে বাধ্য।
Sheikh AL Zihad

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে! আমি শেখ আল জিহাদ—কাজ করছি গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, বিজনেস এন্ড মার্কেটিং; সহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন