স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর ৫টি টিপস

 

আমরা যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করি তারা প্রায় সবাই একটা বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হয় যেটি হলো আমাদের স্মার্টফোন বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়না বা চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। যার কারনে মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো বর্তমানে ৫ হাজার, ৬ হাজার কিংবা ১০ হাজার এম্পেয়ারের বিশাল ব্যাটারি তাদের কোম্পানির তৈরিকৃত ফোনের মধ্যে দেয়ার। কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা 2500 থেকে 3000 এম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন, তারা কি করবেন? 

অনেক সময় দেখা যায় যে, আমাদের ব্যাটারির পাওয়ার অনেক বেশি থাকলেও অনেক সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশিক্ষণ থাকে না। ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য কিছু কারণ রয়েছে। স্মার্টফোন ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে ব্যবহার করার জন্য কিছু কৌশল বা টিপস-এন্ড-ট্রিকস রয়েছে যেগুলো জানলে আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ বেড়ে যাবে। আজকের আর্টিকেলে আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করব ৫টি টিপস যাতে করে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ দুই গুণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। আশা করি আপনাকে আজকের আর্টিকেলটি অনেক হেল্প করবে। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল।


ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর  টিপ- ১


মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশিক্ষণ ধরে রাখার প্রথম টিপ বা উপায়টি হচ্ছে থার্ড পার্টি কোন লঞ্চার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার না করা। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যাদের নিজেদের স্মার্ট ফোনের ডিফল্ট লঞ্চারটি ব্যবহার করতে ভালো লাগেনা। তারা প্লে স্টোর থেকে third-party বিভিন্ন আজেবাজে লঞ্চার এপ্লিকেশন ইন্সটল করে ব্যবহার করে। প্লে স্টোর থেকে 18 পর্টি লঞ্চের গুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে কিন্তু এই লঞ্চের অ্যাপ্লিকেশনগুলি আমাদের স্মার্টফোনের বিশাল ব্যাটারির খেয়ে নেয়।যার কারণে আপনার উচিত হবে না ফোনের ডিফল্ট লঞ্চের টি ডিলিট করে দিয়ে গুগল প্লে স্টোর থেকে third-party আরেকটি লঞ্চার এপ্লিকেশন ইন্সটল করে ব্যবহার করা যদি আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি রাখতে চান। আবার আপনার অবস্থা যদি এমন হয় যে আপনার ডিফল্ট লঞ্চারটি কোনভাবে ভালই লাগেনা তাহলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ভালো রেটেড বেশি, ডাউনলোড করা, ইউটিউবে রিভিউ দেখে ভালো ভালো লঞ্চার অ্যাপ্লিকেশনগুলো ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ একেবারে তো বাড়বে না তবে কিছুটা হলেও বাড়তে পারে। তো অবশ্যই অবশ্যই চেষ্টা করবেন আপনার ফোনের ডিফল্ট লঞ্চার টি ব্যবহার করার আর যদি তা না করতে পারেন তাহলে ভালোভালো লঞ্চা অ্যাপ্লিকেশনগুলো ইন্সটল করে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। 


ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর  টিপ - ২


ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ দ্বিগুণ করার দ্বিতীয় টিপসটি হচ্ছে, সব সময় কালো কালারের ওয়ালপেপার আপনার ফোনে ব্যবহার করা। আপনি যত বেশি কালারফুল ওয়ালপেপার মোবাইলে ব্যাবহার করবেন, যত কালারফুল ভিডিও দেখবেন তত দেখবেন আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ কমে যাচ্ছে। যার কারনে আপনার উচিত হবে সবসময় কাল বা ব্ল্যাক রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করা এতে করে আপনার মোবাইল ফোনের ব্যাটারি কম খরচ হবে। 


ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর  টিপ - ৩


ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ দ্বিগুণ করার তৃতীয় টিপসটি হচ্ছে, কখনো মোবাইলফোনে লাইভ অথবা থ্রিডি ওয়ালপেপার ব্যবহার করবেন না। এই ধরনের লাইভ অথবা থ্রিডি ওয়ালপেপার গুলো ফোনে ভিডিওর মতো করে শো করে এবং এই ওয়ালপেপারগুলো খুবই বেশি ব্যাটারি টানে। যার ফলে আমাদের স্মার্টফোনের ব্যাটারি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই কখোনো আপনাদের স্মার্টফোনে এই ধরনের ওয়ালপেপার ব্যবহার করবেন না। 


ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর  টিপ - ৪


ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর চতুর্থ টিপসটি হচ্ছে, ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপগুলোকে ক্লিয়ার করে দেওয়া। অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা একসাথে ইউটিউব ব্রাউজ করি আবার পাবজি খেলি কিন্তু তখনও আমাদের মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু এধরনের অনেকগুলো অ্যাপের ট্যাব ওপেন করা থাকে। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখার ফলে আমাদের ব্যাটারি চার্জ টানতে থাকে এবং আমাদের ফোনের চার্জ কমে যায়। তো আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে অবশ্যই অবশ্যই আপনাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ গুলো ক্লিয়ার করে নিতে হবে অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সময়। যখন যেটা প্রয়োজন তখন ওই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন এতে করে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী হবে। 


ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর  টিপ - ৫


স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার সর্বশেষ এবং 5 নম্বর টিপসটি হচ্ছে, আপনি যখন যেই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন তখন চেষ্টা করবেন ওই অ্যাপ্লিকেশনটি সবসময় ডার্ক মোডে চালানোর। আপনাকে তো প্রথমেই বলেছি যে আপনি যদি ব্ল্যাক কালারের ওয়ালপেপার ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ বেড়ে যাবে। এখন আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনটি সবসময় ডার্ক মোড থেকে চালান আপনি দেখতে পাবেন আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাবে এবং চার্জ অনেক কম খাবে। কারণ কালো কালার চার্জ টানে। ঠিক এই কারণেই বর্তমানে প্রতিটা সফটওয়্যার কোম্পানি তাদের তৈরিকৃত অ্যাপ্লিকেশনের ডার্ক মোড তৈরি করছে। 

শেষকথাঃ

আজকের আর্টিকেলটি এই পর্যন্তই। আশা করি আপনার অনেক ভালো লাগবে আজকের আর্টিকেলটি। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর হ্যা, টিপসগুলি যদি আপনি এপ্লাই করে ভাল ফলাফল পান তাহলে আমাদেরকে ফিডব্যাক জানাতে পারেন। 

Sheikh AL Zihad

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে! আমি শেখ আল জিহাদ—কাজ করছি গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, বিজনেস এন্ড মার্কেটিং; সহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন